ইতিহাস ও পথচলা
ঐতিহ্য, মানবকল্যাণ ও বিক্রমপুরের মানুষের উন্নয়নে এক দীর্ঘ পথযাত্রা
বিক্রমপুর কল্যাণ ভাবনার সূচনা
মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলা সদরে নিচুতলায় অবস্থিত সারাদেশে সুপরিচিত “ঘাসফুলনদী সাহিত্য সংস্কৃতি গোষ্ঠী” নামে একটি সংগঠন যার নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল ও BUET-এর শেষ পর্যায়ে অধ্যয়নরত সমমনা মেধাবী বন্ধু এবং মুন্সীগঞ্জের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অরাজনৈতিক পটভূমি থেকে কর্মতৎপর কতিপয় প্রতিশ্রুতিশীল যুবক।
তারা ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত জনপদ বিক্রমপুর-এর বিভিন্ন স্তরের প্রতিভাবান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক, শিল্পপতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং জনকল্যাণমূলক কাজে আগ্রহী ব্যক্তিদের একই প্লাটফর্মে এনে পরস্পরের সাথে পরিচিত ও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে “বিক্রমপুর সুধী সমাবেশ-১৯৭৮” শিরোনামে মুন্সীগঞ্জ সদরের হরগঙ্গা কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে “বিক্রমপুর কল্যাণ তহবিল” গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সুধীজনের সুদৃষ্টি আকর্ষণে তারা সক্ষম হন।
ফাউন্ডেশনের শুভ যাত্রা
১২ই জুলাই, ১৯৮০ ঢাকাস্থ হোটেল “গোল্ডেন গেট”-এ বিক্রমপুরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সুধীবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রথম সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) খান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম- এর সভাপতিত্বে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদনের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের শুভ যাত্রার সূচনা হয়।
৩৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সমন্বয়ে প্রথম বোর্ড
মুন্সীগঞ্জের প্রত্যেক উপজেলার বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট ৩৯ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রথম বোর্ড অব গভর্নরস গঠিত হয়, যা রেজিস্ট্রেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ
কল্যাণের ধারাবাহিকতায় বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং বড় অংকের অর্থদাতাদের সম্পৃক্ত করতে না পারায় বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন পূর্বেকার মত বৃহত্তর পরিসরে বৃত্তি প্রদান ও দুঃস্থ মহিলাদের সেবা প্রদানে সমানতালে সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তবে সেই একই কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক মূল স্থায়ী আমানতের কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটে না। ফলে তহবিল বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
আগামীর প্রত্যাশা
আশা করা যায়, বিক্রমপুরের ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা নিয়ে আবার সকল উপজেলার মেধাবী ও গরিব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদানের কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।