বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের গড়ে ওঠা

বিন্দু থেকে সিন্ধু ও প্রতিভার লালনে মানব কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮০ সালে ঢাকা প্রবাসী কতিপয় বিক্রমপুরের সুধীজনের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রাথমিক পর্যায়ে সাংগঠনিক সভা হতো ঢাকা কলেজের শিক্ষক কমন রুমে। যার ব্যবস্থা করতেন ঢাকা কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক এম এ রশিদ এবং বিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম।

পর পর কয়েকটি সভা হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয় এমন একজনকে সভাপতি করার, যার গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম আছে। অধ্যাপক এম এ রশিদ প্রস্তাব করেন সদ্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃগোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলামের নাম। সকলে এ প্রস্তাব সমর্থন করেন।

অধ্যাপক এম এ রশিদ ইসলাম সাহেবের বাসায় গিয়ে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তাঁকে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হতে অনুরোধ করেন। ইসলাম সাহেব প্রথমে রাজি হলেন না। তিনি বলেন, ওখানে নানা মতের লোকজন থাকবে এবং তারা দলাদলি করবে, এসবের মধ্যে আমি যাব না। কিন্তু বাল্যবন্ধু এবং ক্লাসফ্রেন্ড এম এ রশিদ তাঁকে বুঝান যে এখানে দলাদলির লোকজনের কোনো প্রভাব থাকবে না। আমরা একটি তহবিল করবো, যার আয় থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত ইসলাম সাহেব সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে সম্মত হন।

এর পরে ঢাকা কলেজের বিপরীতে মিরপুর রোডের একটি হোটেলে বিক্রমপুরের সুধীজনদের উপস্থিতিতে এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলামকে সভাপতি ও নঈম গওহরকে সাধারণ সম্পাদক করে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন আত্মপ্রকাশ করে। ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক তহবিলের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা। জীবন সদস্য চাঁদা এককালীন ১,০০০ (এক হাজার) টাকা।

প্রথম কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলেন প্রফেসর ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ড. এম এ নাসের, প্রফেসর ড. এ আর খান, এম এ রশিদ এবং নজরুল ইসলাম খান বাদল। যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন এম শহীদুল হক ও নাসিরুল হক। কোষাধ্যক্ষ ছিলেন হাফিজুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন মো. শফি বিক্রমপুর এবং প্রচার সম্পাদক ছিলেন মো. নুরুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীর।

কমিটির সভা মতিঝিলের জেড শাহ হাউসে বাংলাদেশ অয়েল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বোমা)-এর অফিসে অনুষ্ঠিত হতো। ইসলাম সাহেব তখন বোমার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮২ সালে ইসলাম সাহেব লে. জে. হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পরে বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভা সাতমসজিদ রোডে মন্ত্রীর বাসায় অনুষ্ঠিত হতো।

এ সময়ে নিবেদিত সমাজকর্মী আবদুল জলিল মিয়া দলে দলে বিক্রমপুরের ব্যবসায়ীদের বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের জীবন সদস্য করান। প্রথম ১.০০ (এক লক্ষ) টাকা অনুদান দেন শ্রীনগর উপজেলার কবুতরখোলার লীনা টেক্সটাইলের মালিক মো. লুথফর রহমান। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১.০০ (এক) লক্ষ টাকার দাতা শ্রীনগর উপজেলার খোদায় বাড়ির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ খান। তৃতীয় পর্যায়ে ১.০০ (এক লক্ষ) টাকার দাতা রানা ইফতেখার খান। প্রথম জীবন সদস্য হন লৌহজং মৌচ্ছামান্দ্রার আবদুর রাজ্জাক খান।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বকালে প্রতি দুবছর পর ঢাকা লেডিস ক্লাবে ঘটা করে বৃত্তি প্রদান, কৃতি সন্তানদের স্বর্ণপদকে ভূষিত, স্মরণিকা প্রকাশ ও নৈশভোজের আয়োজন করা হতো।

বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যা কয়েক শত—যারা শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতীয় পর্যায়ে অবদানের জন্য স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন সমাজসেবায় আবদুল হাকিম বিক্রমপুর, শিক্ষায় প্রফেসর বজলুল করিম, প্রফেসর ড. এম এ নাসের, চলচ্চিত্র পরিচালনায় আবদুল জব্বার খান, মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক পেশায় এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলাম এবং স্থাপত্যকলায় মইনুল ইসলাম।

বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন শিক্ষায় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও গরীবদের খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসায় আর্থিক অনুদান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় দীর্ঘদিন নানা স্থানে সভা করতে হতো। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলাম সাহেবের পুত্র রানা ইফতেখার খান নিজ বাড়ির (খান বাড়ি নং ৬৯, রোড ৭/এ, ধানমন্ডি) নিচতলায় বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কার্যালয় করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এ পর্যন্ত বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) কে এম আমিনুল ইসলাম, প্রফেসর ড. এম এ নাসের, এম সামসুল ইসলাম, প্রফেসর ড. এ আর খান, এম এম এনামুল হক এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন কে এম নজিব। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন নঈম গওহর, এম শহীদুল হক, আশরাফ আলম কাজল, মো. জয়নাল আবেদীন এবং মো. নাসির উদ্দীন আহমদ।

✦ ইতিহাস • ঐতিহ্য • মানবকল্যাণ

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

১৯৮০ সালে ঢাকায় বসবাসরত বিক্রমপুরের কতিপয় সুধীজনের প্রচেষ্টায় বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রতিভার বিকাশ এবং সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

১৯৮০ প্রতিষ্ঠার বছর
২০ লক্ষ প্রাথমিক তহবিলের লক্ষ্য
১০০০ জীবন সদস্য চাঁদা (টাকা)
শতাধিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী
Chronology

প্রতিষ্ঠার পথচলা

প্রাথমিক পর্যায়

ঢাকা কলেজের শিক্ষক কমন রুম

বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন গঠনের প্রাথমিক সাংগঠনিক সভাগুলো ঢাকা কলেজের শিক্ষক কমন রুমে অনুষ্ঠিত হতো। এ আয়োজনের ব্যবস্থা করতেন ঢাকা কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক এম এ রশিদ এবং বিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক এম এ রশিদের প্রস্তাবে সদ্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃগোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলামকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৮০

বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ

ঢাকা কলেজের বিপরীতে মিরপুর রোডের একটি হোটেলে বিক্রমপুরের সুধীজনদের উপস্থিতিতে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলামকে সভাপতি এবং নঈম গওহরকে সাধারণ সম্পাদক করে ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রাথমিক তহবিল

২০ লক্ষ টাকার লক্ষ্য

ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক তহবিলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২০ লক্ষ টাকা। জীবন সদস্য চাঁদা নির্ধারণ করা হয় এককালীন ১,০০০ টাকা।

১৯৮২

সাতমসজিদ রোডে সভা

১৯৮২ সালে ইসলাম সাহেব লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর ফাউন্ডেশনের সভা সাতমসজিদ রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

বিকাশের পর্যায়

জীবন সদস্য ও দাতাদের অংশগ্রহণ

সমাজকর্মী আবদুল জলিল মিয়ার উদ্যোগে বিক্রমপুরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ফাউন্ডেশনের জীবন সদস্য হন এবং তহবিলে উল্লেখযোগ্য অনুদান দিতে শুরু করেন।

Founding Committee

প্রথম কমিটি

সভাপতি ও সহ-সভাপতি
সভাপতি
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলাম
সহ-সভাপতি
প্রফেসর ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ
সহ-সভাপতি
প্রফেসর ড. এম এ নাসের
সহ-সভাপতি
প্রফেসর ড. এ আর খান
সহ-সভাপতি
এম এ রশিদ
সহ-সভাপতি
নজরুল ইসলাম খান বাদল
সম্পাদকীয় ও অন্যান্য দায়িত্ব
সাধারণ সম্পাদক
নঈম গওহর
যুগ্ম সম্পাদক
এম শহীদুল হক
যুগ্ম সম্পাদক
নাসিরুল হক
কোষাধ্যক্ষ
হাফিজুল ইসলাম
সাংস্কৃতিক সম্পাদক
মো. শফি বিক্রমপুর
প্রচার সম্পাদক
মো. নুরুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীর
Supporters

প্রাথমিক পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য দাতা

১ লক্ষ টাকা

শ্রীনগর উপজেলার কবুতরখোলার লীনা টেক্সটাইলের মালিক মো. লুথফর রহমান

১ লক্ষ টাকা

শ্রীনগর উপজেলার খোদায়বাড়ির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ খান

১ লক্ষ টাকা

রানা ইফতেখার খান — প্রাথমিক পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য দাতা

প্রথম জীবন সদস্য: লৌহজং মৌচ্ছামান্দ্রার আবদুর রাজ্জাক খান
Human Welfare

মানবকল্যাণে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম

🎓

শিক্ষা বৃত্তি

মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান।

🏅

স্বর্ণপদক

জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা কৃতি সন্তানদের সম্মাননা ও স্বর্ণপদক প্রদান।

🍚

খাদ্য সহায়তা

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান।

🏥

চিকিৎসা সহায়তা

অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান।

🔥

দুর্যোগ সহায়তা

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।

📖

স্মরণিকা প্রকাশ

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ও কৃতি ব্যক্তিদের নিয়ে স্মরণিকা প্রকাশ।

Recognition

স্বর্ণপদকে সম্মানিত কৃতি সন্তান

🏅

আবদুল হাকিম বিক্রমপুর

সমাজসেবায় অবদানের জন্য

🏅

প্রফেসর বজলুল করিম

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য

🏅

প্রফেসর ড. এম এ নাসের

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য

🏅

আবদুল জব্বার খান

চলচ্চিত্র পরিচালনায় অবদানের জন্য

🏅

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক পেশায় অবদানের জন্য

🏅

মইনুল ইসলাম

স্থাপত্যকলায় অবদানের জন্য

Leadership

এ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়েছেন যারা

সভাপতিগণ

  1. এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলাম
  2. প্রফেসর ড. এম এ নাসের
  3. এম সামসুল ইসলাম
  4. প্রফেসর ড. এ আর খান
  5. এম এম এনামুল হক
  6. গ্রুপ ক্যাপ্টেন কে এম নজিব

সাধারণ সম্পাদকগণ

  1. নঈম গওহর
  2. এম শহীদুল হক
  3. আশরাফ আলম কাজল
  4. মো. জয়নাল আবেদীন
  5. মো. নাসির উদ্দীন আহমদ

নিজস্ব কার্যালয়ের ঠিকানা

দীর্ঘদিন নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় বিভিন্ন স্থানে ফাউন্ডেশনের সভা অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) কে এম আমিনুল ইসলামের পুত্র রানা ইফতেখার খান তাঁর নিজ বাসভবনের নিচতলায় বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের ব্যবস্থা করেন।

খান বাড়ি নং ৬৯, রোড ৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা
বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন • ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবকল্যাণের ধারাবাহিক পথচলা